বিকালে ঘুম ভেঙে যদি তুমি দেখো হলুদ আলোয় ছেয়ে গেছে চরাচর। যদি দেখো এক ঝাঁক কালো পাখি আকাশে পাক খাচ্ছে বিষণ্ন অলস ভঙ্গিতে। হঠাৎ তেঁতো লাগছে দুধে ডোবানো পাউরুটি। চিনিতে গন্ধকের ঘ্রাণ পেতে শুরু করেছো। তবে তোমার ভীষণ জ্বর হয়েছে। পুড়ে যাচ্ছে শরীর।
ঋতু বদলের সময় এরকম হয়।
পৃথিবীতে অনেক মানুষের জ্বর আসে। কিছুই করার থাকে না। শুধু পাশে বসে টেনশন করার একজন মানুষ লাগে। কিছুক্ষণ পরপর যে এসে কপালে হাত রেখে খুব খারাপ একটা চিন্তা করবে। তারপর চিন্তা থেকে নিজেকে সরিয়ে বলবে, স্যুপটুকু খাও অন্তত। অথবা জলপট্টি দেবে। খাবারের পর এগিয়ে দেবে প্যারাসিটামল। সকল উৎকণ্ঠা গোপন করে বলবে, ঠিক হয়ে যাবে। জানালা দিয়ে রোদ এসে গায়ে জড়ানো কাঁথার ওপর পড়বে। বন্ধ ফ্যানের দিকে তুমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে। মনে পড়বে অতীতের জ্বরগুলোর কথা। মৃত্যু চিন্তা মাঝে মাঝে ঘরের দরজা ঠেলে উঁকি দিয়ে দেখে যাবে তোমাকে।
পৃথিবীতে সকল অসুখের আগে জ্বর আসে। ভগ্নদূতের মতো। ফলে, দূর থেকে আমি শুভকামনা পাঠাই। জানাই উদ্বেগ। আশাকরি সেরে উঠবে শীঘ্রই।
খুব ইচ্ছা হয় কয়েকটা কমলালেবু নিয়ে তোমার কাছে চলে যাই। একেকটা কোয়া যত্ন করে তুলে দেই মুখে। অথবা নীল ছোট্ট তোয়ালে দিয়ে মুছে দিই কপালের উষ্ণতা।
সে উপায় নেই।
আপাতত সন্ধ্যার ম্রিয়মান আলোয় আমি দেখি একঝাঁক পাখির বিষণ্ন উড়ান। হয়তো ওদের ঘর নেই। হয়তো কোথাও উজাড় হয়েছে বন নিকট অতীতে।
